গতকাল বাদ যোহর কেন্দ্রীয় আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ তা’লীমি মজলিশে প্রধান অতিথি হিসেবে তাশরিফ আনেন এবং সারাদেশসহ সারা বিশ্বের আঞ্জুমান প্রতিনিধিগণের উদ্দেশ্যে রাজারবাগ দরবার শরীফ-এর আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী এ নছীহত মুবারক পেশ করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ পাক বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বিন্দু নেকী করবে সে তার বদলা পাবে, আর যে এক বিন্দু বদী করবে সেও তার বদলা পাবে। অর্থাৎ বিন্দু বা জাররা জাররা থেকেই সব কিছু শুরু হয়। জাররা জাররা পানি বর্ষিত হতে হতে এক সময় বন্যা হয়ে যায়, সাগর মহাসাগর হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে জাররা জাররা আমল থেকে বিশাল আমলের পাহাড় গড়ে উঠে।
তিনি বলেন, আঞ্জুমানের আমীলগণকে কোন অবস্থাতেই এক বিন্দু সুন্নতের খিলাফ চলা যাবে না। সব অবস্থায় সুন্নতের উপর ইস্তিকামত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের জন্য আল্লাহ পাক, উনার অপার রহমত, আল্লাহ পাক, উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার অসীম ইহসান যে উনারা অত্যন্ত দয়া করে আমাদেরকে বাংলাদেশে প্রেরণ করেছেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারী যামানার মহান মুজাদ্দিদ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী, উনার মুুবারক ছোহবত দান করেছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী, উনার প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিনিধিদের দায়িত্বে উনার মুবারক তাজদীদসমূহ সারাবিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া, হক্ব মত, হক্ব পথের মুবারক বাণী সকল মুসলমানগণের নিকট পৌঁছে দেয়া। আর এ জন্য সর্বাগ্রে আঞ্জুমানে আমীলগণকে নিজেদের মধ্যে খিলাফত বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ মাথার তালু থেকে পায়ের তলা নিজেকে পরিপূর্ণ সুন্নতের রঙে রঞ্জিত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা ও আইন ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দ্বীন ইসলামের খিদমতের জন্য সচ্ছলতার প্রয়োজন অবশ্যক। তাই প্রত্যেককে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর নির্দেশনাবলীর দ্বারা নিজেকে আইন তথা নিয়মানুবর্তীতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আর প্রত্যেককে অবশ্যই কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ-এর ইলম সমৃদ্ধ হতে হবে। যা তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফ পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলমান খুব সহজেই লাভ করতে পারেন। তিনি বলেন, জাহিরী ইলমের পাশাপাশি বাতিনী ইলমে অর্থাৎ ইলমে তাসাউফও লাগবে। সে জন্য প্রত্যেককে তার ওযীফা, জিকির-ফিকির ঠিক রাখতে হবে। কমপক্ষে এক ঘন্টা জিকির তাকে অবশ্যই করতে হবে। তাহলে তার পক্ষে ইস্তিকামত থেকে কাজ করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ মজলিসে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা রাখেন মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফ-এর সম্পাদক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম, আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব:) আনোয়ার হুসাইন খান, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মুহম্মদ মুফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের বিশিষ্ট আমীল মুহম্মদ মামুনুর রহমান, এবং সুইডেন আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর সভাপতি মুহম্মদ শফিউর রহমান নিপু সাহেব।
মজলিস পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর বিশিষ্ট আমীল গোলাম মুনজির মুহম্মদ সাহেব ও মুহম্মদ হাফিজুর রহমান খান।
গতকাল ২৬ মাহে রবীউল আউয়াল, ১৪৩১ হিজরী, বাদ যোহর কেন্দ্রীয় আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর উদ্যোগে বিশেষ তা’লীমি মজলিশ অনুষ্ঠিত হয় । প্রধান অতিথি হিসেবে তাশরিফ আনেন আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী ।
March 14, 2010 by albaiyinaatnews
Advertisement





